সম্মানিত দর্শক আপনাকে স্বাগতম। আমাকে Facebook instagram Telegram এ পাবেন। কামরুলকক্স: শশার আছে নানাগুণ

শশার আছে নানাগুণ


আফতাব চৌধুরী : শশার রয়েছে অনেক গুণরূপচর্চা ও মেদ নিয়ন্ত্রণসহ নানা উপযোগিতা আছে এই সহজলভ্য সবজিরশশার হাজারো গুণের মধ্যে ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন খাদ্য বিশেষজ্ঞরাযেমন-


*ধরুন আপনি এমন কোথাও আছেন, যেখানে হাতের কাছে পানি নেই, কিন্তু শশা আছেবড়োসড়ো একটি শশা চিবিয়ে খেয়ে নিন পিপাসা মিটে যাবেআপনি হয়ে উঠবেন চনমনেকারণ, শশার ৯০ শতাংশই পানি

*কখনো কখনো আপনি শরীরের ভেতরে-বাইরে প্রচন্ড উত্তাপ অনুভব করেনদেহে জ্বালাপোড়া শুরু হয়এ অবস্থায় একটি শশা খেয়ে নিনএ ছাড়া, সূর্যের তাপে ত্বকে জ্বালা অনুভব করলে শশা কেটে ত্বকে ঘঁষে নিননিশ্চিত ফল পাবেন

*শশার মধ্যে যে পানি থাকে তা আমাদের দেহের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে অনেকটা অদৃশ্য ঝাড়র মতো কাজ করেনিয়মিত শশা খেলে কিডনিতে সৃষ্ট পাথরও গলে যায়

*প্রতিদিন আমাদের দেহে যে সব ভিটামিনের দরকার হয়, তার বেশির ভাগই শশার মধ্যে বিদ্যমানভিটামিন এ বি ও সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শক্তি বাড়ায়সবুজ শাক ও গাজরের সঙ্গে শশা পিষে রস করে খেলে এই তিন ধরনের ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হবে

* শশায় উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম ম্যাগনেশিয়াম ও সিলিকন আছে যা ত্বকের পরিচর্যায় বিশেষ ভূমিকা রাখেএ জন্য ত্বকের পরিচর্যায় গোসলের সময় অনেকে শশা ব্যবহার করে থাকেন

*শশায় উচ্চমাত্রায় পানি ও নি¤œমাত্রার ক্যালরিযুক্ত উপাদান রয়েছেফলে যারা দেহের ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য শশা আদর্শ টনিক হিসেবে কাজ করবেযারা ওজন কমাতে চান, তারা স্যুপ ও স্যালাডে বেশি বেশি শশা ব্যবহার করবেনকাঁচা শশা চিবিয়ে খেলে তা হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখেনিয়মিত শশা খেলে দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়

*সৌন্দর্য চর্চার অংশ হিসেবে অনেকে শশা গোল করে কেটে চোখের পাতায় বসিয়ে রাখেনএতে চোখের পাতায় জমে থাকা ময়লা যেমন অপসারিত হয়, তেমনি চোখের জ্যোতি বাড়াতেও কাজ করেচোখের প্রদাহ প্রতিরোধক উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকায় ছানি পড়া, জরায়ু, স্তন ও মূত্রগ্রন্থিসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে এই তিনটি উপাদানের জোরালো সম্পর্ক ঠেকাতেও এটি কাজ করে

*শশায় সিকোইসোলারিসিরেসিনোল, ল্যারিসিরোসিনোল ও পিনোরেসিনোল-এ তিনটি আয়ুর্বেদ উপাদান আছে বলে বিজ্ঞানীদের অভিমত

*ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি দেয়, কোলেস্টেরল কমায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখে।*দুর্গন্ধযুক্ত সংক্রমণ আক্রান্ত মাড়ির চিকিৎসায় শশা দারুণ কাজ করেগোল করে কাটা এক স্লাইস শশা জিহ্বার ওপরে রেখে সেটি টাকরার সঙ্গে চাপ দিয়ে আধ মিনিট রাখুনশশার সাইটোকেমিক্যাল এর মধ্যে বিশেষ বিক্রিয়া ঘটিয়ে আপনার মুখের জীবাণু ধ্বংস করবেসজীব হয়ে উঠবে আপনার নিশ্বাস

*শশার মধ্যে যে খনিজ সিলিকা থাকে তা আমাদের চুল ও নখকে সতেজ ও শক্তিশালী করে তোলেএ ছাড়া শশার সালফার ও সিলিকা চুলের বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে

*শশায় প্রচুর পরিমাণে সিলিকা আছেগাজরের রসের সঙ্গে শশার রস মিশিয়ে খেলে দেহের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নেমে আসেএতে গেঁটেবাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।*ভোরে ঘুম থেকে উঠার পর অনেকের মাথা ধরেশরীর ম্যাজ ম্যাজ করেশশায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সুগার আছেতাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক টুকরো শশা খেয়ে নিলে ভোরে ঘুম থেকে উঠার পর এ সমস্যা থাকবে না

*শরীরকে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ঠিক রাখে শশাএতে কিডনি থাকে সুস্থ ও সতেজ সাংবাদিক-কলামিস্ট (ইনকিলাব-১৬/৭/১৪)

0 মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comments করার জন্য Gmail এ Sign in করতে হবে।