আমরা সবাই বলি 'শিক্ষার
আলো প্রতি ঘরে জ্বালো'। কিন্তু সেই শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার প্রত্যাশায় ব্যাকুল কেউ
যখন নানারকম প্রতিবন্ধকতার শিকার হন তখন স্বভাবতই প্রশ্ন আসে কেন এমন হয়। এমনি আলোক
প্রত্যাশী আত্দপ্রত্যয়ী এক সংগ্রামী কিশোরীর সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে ইত্যাদি।
নাম তার খেলুরানী ধর।
গত ৩০ নভেম্বর ২০০৭ তারিখে প্রচারিত ইত্যাদিতে তুলে ধরা হয়েছে
খেলুরানীর জীবন কাহিনী। খেলুরানীর বাড়ি কক্সবাজার জেলার উখিয়া থেকে ১৫ কিঃ মিঃ দূরে
৫নং ফালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া গ্রামে। খেলুরানী ধর স্থানীয় মহিলা কলেজে বাণিজ্য
প্রথম বর্ষের মেধাবী ছাত্রী। তিন ফুট উচ্চতার এই কিশোরীর একটি পা আরেকটি পায়ের চেয়ে
ছোট, বলা যায় প্রায় অর্ধেকের মতো। যে কারণে হাঁটাও তার জন্য সহজ নয়। এ অবস্থাতেই পাহাড়ি
কাঁচা রাস্তায় প্রতিদিন ৬/৭ কিলোমিটার হেঁটে তারপর গাড়িতে উঠতে পারলে কলেজে যাওয়ার
সৌভাগ্য হয় তার। কখনো কখনো ভিড়ের কারণে যেমন গাড়িতে উঠতে পারে না। তেমনি অনেক গাড়ি
আবার তাকে নিতেও চায় না। বাবা সুনীল ধর সামান্য একজন গ্রাম্য দর্জি। স্বল্প আয়ে যেখানে
সংসার চালানোই কষ্টকর সেখানে মেয়ের কলেজে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন গাড়ি ভাড়াও দিতে পারে
না। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, পারিপাশ্বর্িক প্রতিকূলতা, আর্থিক অসচ্ছলতা সবকিছুকেই জয়
করার একমাত্র সম্বল তার মানসিক শক্তি। খেলুরানীর শিক্ষা জীবনকে সচল রাখার জন্য 'ইত্যাদি'র
মাধ্যমে এক লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২৮ জানুয়ারি ২০০৮ সালে ইত্যাদির
পক্ষ থেকে খেলুরানীকে বারী ইলিজারভ অর্থোপেডিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সেন্টারের
পরিচালক ডা. মো. মোফাখখারুল বারী তাকে পরীক্ষা- নিরীক্ষা করার পর চিকিৎসার পরামর্শ
দেন। খেলুরানীর সহজে চলাচলের সুবিধার জন্য ব্র্যাক লিম্ব এবং ব্রেইস সেন্টারের সহায়তায়
একটি কৃত্রিম পা সংযোজন করে দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

0 মন্তব্য:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comments করার জন্য Gmail এ Sign in করতে হবে।