সম্মানিত দর্শক আপনাকে স্বাগতম। আমাকে Facebook instagram Telegram এ পাবেন। কামরুলকক্স: ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডিম থেকে কোয়েল উৎপাদন

ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডিম থেকে কোয়েল উৎপাদন


নিজের তৈরি মেশিন দিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কোয়েল পাখির ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করছেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার শামসুল ইসলাম (৪৫)। বাচ্চা উৎপাদনে নিজস্ব কায়দায় শেটার ও হ্যাচার নামের দুটি মেশিন উদ্ভাবন করে পোলট্রি শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তিনি। এ দুটি মেশিন দিয়ে সহজ পদ্ধতি ও আর্থিক সাশ্রয়ে মাসে প্রায় ৩০ হাজার কোয়েল উৎপাদিত হচ্ছে তার খামারে।


উপজেলার লামাকাজি বাজার সংলগ্ন মাদ্রাসার পার্শ্বে শামসুলের পাখির খামার। নিজ বাসভবনের সাড়ে ৯শ' স্কয়ার ফুট ছাদে কোয়েল পাখির খামার করেছেন তিনি। এখানেই পাখি উৎপাদন ও লালন পালন করা হয়। ছাদের এক পাশের ঘরে রাখা হয়েছে বিক্রিপোযুক্ত ও ডিম পাড়া পাখি, অন্যপাশে শেটারে ১৫ হাজার ডিম তা দেয়া হচ্ছে। পাশেই রয়েছে সদ্য উৎপাদিত ৫ হাজার কোয়েল ছানার ব্রোডিং।

শামসুলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে শেটারে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ১৫ হাজার ডিম ১৪ দিন তা দেয়া হয়। এরপর হ্যাচারে আরও ২ দিন রাখার পর বাচ্চা ফোটে। পরে ব্রোডিংয়ে স্থানান্তর করা হয় কোয়েল ছানাদের। এভাবে মাসে দুবারে ৩০ হাজার বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। বতর্মানে তার খামারে ১৭০০ পাখি ডিম দিচ্ছে। প্রতিমাসে সিলেটের বিভিন্ন বাজারে ১০ হাজার পাখি বিক্রি করছেন তিনি। যার বাজার মূল্য ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। 

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন তিনি। বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে যে অর্থ উর্পাজিত হয় তারচে' কম কষ্টে দেশেই তা উর্পাজন করা সম্ভব মনে করে দেশে ফিরে আসেন। পোলট্রির ওপর সিলেট যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ৩ মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে কোয়েল পালনে আগ্রহী হন। ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে ২০০ পাখি এনে ফার্ম করেন তিনি। পর্যায়ক্রমে গবেষণার মাধ্যমে প্রশিক্ষণে শেখা তুষ পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে নিজস্ব ডিজাইনে একটি শেটার ও একটি হ্যাচার উদ্ভাবন করেন। যা থেকে মাসে ৩০ হাজার কোয়েল উৎপাদন সম্ভব। নতুন যন্ত্র উদ্ভাবনের মাধ্যমে কাজের প্রতি যত্নশীল শামসুল সাফল্যের শিখরে আরোহন করেন।

শামসুলের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সাহস আর মনোবলই মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। আমার উদ্ভাবিত দুটি মেশিন পোলট্রি শিল্পের প্রসার ও দেশের অর্থনৈতিক খাতের প্রসারে ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী। এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম সরকার বলেন, শামসুল ইসলাম নিজের চিন্তা-চেতনা কাজে লাগিয়ে সাফল্যের নজির স্থাপন করেছেন। তার উদ্ভাবনী যন্ত্র পোলট্রি শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। 

সূত্রঃ বিডি-প্রতিদিন/ ১০ মার্চ, ২০১৫/ রশিদা



0 মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comments করার জন্য Gmail এ Sign in করতে হবে।