সম্মানিত দর্শক আপনাকে স্বাগতম। আমাকে Facebook instagram Telegram এ পাবেন। কামরুলকক্স: সদা মিথ্যা কথা বলিবে!

সদা মিথ্যা কথা বলিবে!

                                                              

কথায় আছে-জনে জনে জনতা বা জনগণ, আবার যতজন-ততমন, যতমন-ততমত, যতমত-ততপথ। আর এই নানা মত, নানা পথের মতান্তর নিয়ে মাতামাতি রাষ্ট্র থেকে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দেখা যায়। আমাদের এখানে কিছু কিছু মানুষ আছে যাদের মুখ একটা হলেও মুখোশ অনেক। সেই মুখোশের মুখে-মুখ ফসকেও এরা সত্যি কথা বলতে পারে না। তাই চারদিকে চলছে মিথ্যাচারের মহোৎসব। এখন কে কী উদ্দেশ্যে কী বলেন, আর কী উদ্দেশ্যে তা বদলেও ফেলেন বোঝা মুশকিল। ছোটবেলায় পড়েছিলাম 'সদা সত্য কথা বলিবে', এদের কর্মকাণ্ডে মনে হয় কথাটি হওয়া উচিত ছিল 'সদা মিথ্যা কথা বলিবে'। এ মিথ্যাবাদীদের অধিকাংশেরই আরেক নাম 'চামচা'। এদের মুখের মুখরতায় মুগ্ধ হন অনেকেই। কারও ক্ষতি কিংবা অবনতির জন্য আশপাশে এ ধরনের দু'একটি প্রাণী থাকলে আর কিছু লাগে না। এরা একবার আপনাকে আকাশের ওপর তুলে ধরবে আবার ধপ করে মাটিতে ফেলে দেবে। এদের অস্ত্র একটাই 'মিথ্যা বলা'।

আমরা জানি- 'ধনুকের তীর আর মুখের কথা একবার বেরিয়ে গেলে তা আর ফেরানো যায় না'। অতএব মুখ থেকে কথাটা বের হওয়ার আগেই ঢের ভাবা উচিত, যাতে কথা বের করার আগেই টের পাওয়া যায় এর জেরটা কোনদিকে যাবে। কিন্তু এদের ক্ষেত্রে ভাবাভাবির বালাই নেই। সুবিধা আদায়ের জন্য নানা ধরনের মিথ্যা কাহিনী বানিয়ে এরা 'চামচামি' করে। আমাদের চারপাশে বিশেষ করে টিভি, রেডিও, পত্র-পত্রিকা, সেমিনার এবং নানান আকৃতির টেবিল (গোল, চারকোনা ইত্যাদি) বৈঠকে প্রতিনিয়ত নানাজনকে নানান কথা বলতে দেখি, শুনি এবং পড়িও। অধিকাংশই রাজনীতি সংক্রান্ত। আর এ রাজনীতিতে মিথ্যাচার নতুন কিছু নয়। রাজনীতি সম্পর্কে প্রচলিত কথাই তো রয়েছে 'রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই'। অর্থাৎ যার যার সুবিধামতো যে কোনো কথা বলাও যায় আবার সুযোগ বুঝে বদলেও ফেলা যায়। সেটা সত্য না মিথ্যা তাতে কিছু যায় আসে না। আমার বিষয় রাজনীতি নয়। এ বিষয়টি নিয়ে বলার, লেখার এবং ভাবার প্রচুর লোক রয়েছেন। আমি যেহেতু মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত তাই এ অঙ্গনেই থাকতে চাই। দু'একটি ব্যতিক্রম ছাড়া মিডিয়ার অনেকের সম্পর্কেও মিথ্যাচারের অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে কিছু কিছু মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব কারণে টিভি বন্ধ করে দিয়ে অনেকেই বলে উঠেন- 'নাহ্ এই একই প্যাঁচাল আর ভাল্লাগে না'। অর্থাৎ গণমাধ্যমের কথাও এখন ক্ষেত্রবিশেষে 'প্যাঁচাল' হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমাদের দেশে নানান ধরনের রিয়েলিটি শো দেখা যায়। এটি এখন মিডিয়াবান্ধব ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচুর আচার নিয়ে প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে নাচ, গান, অভিনয়, সুন্দরী নারী এবং হ্যান্ডসাম ও সাহসী পুরুষ খোঁজার রিয়েলিটি শো-এর ব্যবসা এখন বেশ জমজমাট। এদের আবার মিডিয়া পার্টনারেরও অভাব নেই। দেশ বিদেশে অনুষ্ঠিত এসব প্রতিযোগিতা গ্র্যান্ড ফিনালে দেখলে অনুষ্ঠানের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। মনে হয় যেন বিদেশি অনুষ্ঠান দেখছি। কারিগরি দিক থেকে বিদেশি অনুষ্ঠানের মতো মানসম্পন্ন হলে খুশি হতাম; কিন্তু নিম্নমানের এসব অনুষ্ঠানে চলে বিজাতীয় সংস্কৃতির তাণ্ডব, যা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক দর্শক রিমোট টিপে অন্য চ্যানেলে চলে যান। নানান ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় সদ্য তারকাখ্যাতি পাওয়া কিছু শিল্পী এবং কোমলমতি কিশোরীকে ভারতীয় চ্যানেলের অনুকরণে অশোভন পোশাক পরে এসব অনুষ্ঠানে উদ্ভট লম্ফঝম্ফ এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে যখন নৃত্য করতে দেখি তখন স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে, এসব কি বাংলাদেশের সংস্কৃতি? কারা এদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে? দেশীয় সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার অধিকার এদের কে দিয়েছে? তবে এসব প্রশ্ন কারও মনে উদয় হলেও জবাব দেওয়ার লোক নেই। থাকবেই বা কী করে, যারা দেশাত্মবোধ এবং দেশপ্রেমের কথা বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষার জন্য সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন তাদের অনেককেই এসব অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার, সহযোগী কিংবা ভ্রমণসঙ্গী হতে দেখা যায়। সমালোচনা তো দূরের কথা উল্টো প্রশংসায় পঞ্চমুখ। শুধু তাই নয়, কিছুদিন আগে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পর্বে যে নৃত্যগীত উপস্থাপন করা হলো তা ছিল একটি ফোন কোম্পানির ব্যবসায়িক জিঙ্গেল। ভাবতে অবাক লাগে বাংলাদেশে এত গুণী শিল্পী এবং গীতিকার-সুরকার থাকা সত্ত্বেও একটি ব্যবসায়িক জিঙ্গেল কী করে বিসিবি আমাদের দেশের 'পর্ব' হিসেবে উপস্থাপন করার অনুমোদন দিল? আর সেই পর্বে নৃত্য পরিবেশনরত মেয়েদের যে পোশাক ছিল তা কি আদৌ আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে? ওসব পোশাক কি বাংলাদেশের মেয়েদের পোশাক? এ ধরনের পোশাক পরে যখন নৃত্য পরিবেশনার নামে উদ্ভট ভঙ্গিতে লাফালাফি করছিল তা কি শোভন দেখাচ্ছিল? এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, নিন্দা জানিয়েছেন। আমার মনে আছে ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ যখন আইসিসি ট্রফি জিতে প্রথমবারের মতো ১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, তখন আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার আনন্দে তৎকালীন ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের উদ্যোগে আমাদের দেশে ক্রিকেট নিয়ে প্রথম যে গানটি নির্মিত হয় সেটি করার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। গানটিতে ওই সময় কণ্ঠ দিয়েছিলেন- খালিদ হাসান মিলু, তপন চৌধুরী, কুমার বিশ্বজিৎ ও সহশিল্পীরা। লিখেছিলেন আশেক মাহমুদ ও সুর করেছিলেন আলী আকবর রুপু। আকরাম খান, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, আতাহার, মোহাম্মদ রফিক, মনি, দুর্জয়, খালেদ মাসুদ পাইলটসহ অন্য ক্রিকেট তারকারা গানটির চিত্রায়ণে অংশ নিয়েছিলেন। গানটি ফিলার হিসেবে বিটিভিতে বেশ কয়েকবার প্রদর্শিতও হয়েছিল। আত্মপ্রচার নয় প্রসঙ্গটি উত্থাপন করার উদ্দেশ্য হলো তখন গানটি নির্মাণের জন্য বা ধারণ করার জন্য কোনো বহুজাতিক কোম্পানির প্রয়োজন হয়নি। গানটির দৃশ্যায়নে যে মেয়েরা অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের পরনে ছিল শাড়ি, টি-শার্ট নয়। গানটি ওই সময় সব মহলে প্রশংসিত হয়েছিল। আমার মনে হয় এসব ক্ষেত্রে যারা পৃষ্ঠপোষকতা করেন বা নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে থাকেন তাদেরই উচিত আয়োজকদের সঠিক পথ দেখানো। নইলে যে কোনো সময় আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পথ হারিয়ে ফেলতে পারে। যাই হোক প্রসঙ্গ ছিল মিথ্যা বলা। আমাদের দেশে অনেক বিষয়ে রিয়েলিটি শো হলেও একটি বিষয়ে এখনো কোনো রিয়েলিটি শো হয়নি। তা হচ্ছে এই মিথ্যা কথা বলা। আমার এক বন্ধু একবার রসিকতা করে বলছিল, 'আমাদের এখানে যদি রাজনীতিবিদ, নানাবিধ সোসাইটির লোকজন, নানাপন্থি সাংবাদিক, ইতিহাসবিদ, শিক্ষক মোটকথা যারা সমাজে অসাধারণ মানুষ হিসেবে খ্যাত তাদের নিয়ে মিথ্যা কথা বলার প্রতিযোগিতা করা হয়, তাহলে আমি নিশ্চিত পৃথিবীর সব দেশকে পেছনে ফেলে মিথ্যা বলায় আমরা চ্যাম্পিয়ন হব'। যদিও সেক্ষেত্রে দেশের জন্য কষ্ট হবে, কারণ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের মতো বাংলাদেশ মিথ্যাচারের মতো আর একটি খারাপ বিষয়েও চ্যাম্পিয়ন হলো। কামনা- এমনটি যেন কস্মিনকালেও না হয়। রাতেরবেলা যারা বিভিন্ন চ্যানেলে টকশো দেখেন তারা নিশ্চয়ই বিষয়টি কিছুটা উপলব্ধি করবেন। আমাদের গণতান্ত্রিক চর্চা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় টকশো অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও দু'একটি ব্যতিক্রম ছাড়া টকশোগুলোতে যিনি যে দল করেন বা যে দলের সমর্থক কিংবা যে দলের আদর্শে বিশ্বাসী তিনি তার নিজের মতো করে নানান 'ইতিহাস' বলেন। রাজনীতিবিদরা তাদের দলীয় স্বার্থে বলতেই পারেন। কিন্তু নিরপেক্ষ বলে দাবিদার এসব চেনামুখ যখন ইনিয়ে-বিনিয়ে কারও পক্ষ নিয়ে নিজের মনগড়া ইতিহাস বলতে থাকেন তখনই তাদের চরিত্র, আদর্শ বা নীতিবোধ নিয়ে প্রশ্ন জাগে। এদের কথাবার্তা শুনলে মনে হয় দেশের সব টিভি দর্শকের স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে। তারা সবাই মূক, বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন। কেউ কিছু দেখেননি, কেউ কিছু বলতে পারেন না, কেউ কিছু শুনেননি, কারোই কোনো ইতিহাস জানা নেই। তারাই সব জানেন এবং বোঝেন। আর কিছু কিছু সঞ্চালকের ভূমিকা তো ভীষণভাবে একপেশে এবং পক্ষপাতদুষ্ট। এরা সঞ্চালকের ভূমিকায় না এসে যার যার বিশ্বাস অনুযায়ী রাজনীতি করলেই ভালো করতেন। তবে এসব টকশো সাধারণ মানুষকে কতটুকু প্রভাবিত করে তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যিনি আবাহনী সমর্থন করেন তাকে যেমন শত বোঝালেও মোহামেডান সমর্থন করানো যাবে না, তেমনি মোহামেডানের সমর্থককেও কিছুতেই আবাহনী সমর্থন করানো যাবে না। এসব টকশোয়ের দর্শকরাও তেমনি, অনেকটা ফুটবল খেলার মতো। দুপক্ষ কথা বলছে- কে কাকে কথার 'বলে' পরাজিত করে জয়ী হলো উভয়পক্ষের দর্শকদের মধ্যে সেই উত্তেজনাটাই বেশি থাকে। তাই পছন্দের বক্তা তর্কযুদ্ধে জিতলে তিনি খুশি হন। যেন গোল দিলেন। এসব দেখে মাঝে মাঝে মনে হয় স্কুলভিত্তিক শিশু-কিশোরদের বিতর্ক প্রতিযোগিতা দেখছি। আবার কিছু কিছু টকশোতে বেশ বিনোদনও পাওয়া যায়। তবে যারা কোনো দলাদলিতে নেই তারা হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তারা সবই দেখছেন, জানেন এবং বোঝেন। তাই কোনো মিথ্যাচারই তাদের প্রভাবিত করে না। মিথ্যা কথা শুনলে তারা বরং বিরক্ত হন। সাধারণ মানুষ চায় কথা কম কাজ বেশি, আর কাজ পেলেই তারা খুশি। তারা চান শান্তিতে বসবাস, নিশ্চিন্তে আহার-নিদ্রা, বেঁচে থাকার গ্যারান্টি।
এবার 'লেখালেখির' মিথ্যাচারে আসি। আজকাল বাড়িভাড়া, গাড়ি ভাড়ার মতো লেখালেখির জন্যও এক বা একাধিক ভাড়াটে লোক পাওয়া যায়। অর্থের বিনিময়ে কিংবা চাকরি দিয়ে তাদের মাধ্যমে আপনি স্বনামে অনেক কিছু লেখাতে পারেন। তারপর অর্থের জোরে আপনিও হয়ে যেতে পারেন, লেখক, গবেষক, প্রাবন্ধিক কিংবা বিশেষজ্ঞ। তারপর মিডিয়ায় প্রতিপত্তির জোরে গণসংযোগের 'বলে' পেয়ে যেতে পারেন দেশি-বিদেশি নানান পুরস্কার। তারপর নিজ নিজ মিডিয়ায় নানান রংয়ে, নানান ঢংয়ে তার প্রচার প্রচারণা। ব্যস হয়ে গ্যালেন একজন আত্মস্বীকৃত বুদ্ধিজীবী। আপনার বুদ্ধি না থাক-অর্থ এবং মিডিয়া তো আছে। আপনাকে ঠেকায় কে? ইদানীং আবার বিভিন্ন চ্যানেলে নিজস্ব কিছু মিডিয়া 'চামচা' দেখা যায়। এদের মধ্যে সমাজের নামিদামি ব্যক্তিরাও আছেন। 'চাহিবামাত্র' যাদের পাওয়া যায়। যারা এসব চ্যানেলের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের চামচামি করে অনুষ্ঠান এবং অর্থ পান। নিয়মিত চামচামি করার জন্য কেউ কেউ মাসোয়ারা পান বলেও শুনেছি। এসব ব্যক্তিও মাঝে মাঝে ব্যক্তি বিশেষের জন্য ভাড়াটে লেখকের কাজ করেন। আপনি যে অনুষ্ঠানই নির্মাণ করেন না কেন ইচ্ছা করলে আপনি এসব নামিদামি, সম্মানিত ব্যক্তিকে দিয়ে আপনার কর্ম নিয়ে প্রশংসাবাণী বা প্রশংসাসূচক কলামও লেখাতে পারেন। তিনি অনুষ্ঠান দেখুন বা না দেখুন কিছুই যায়-আসে না। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এসব কাজও সম্ভব। কারণ এদের উভয়েরই উভয়কে প্রয়োজন। এদের কেউ কেউ অনেককে মুখে মুখে ম্যাগসেসে, নোবেলও পাইয়ে দেন। অর্থাৎ চারদিকে মিথ্যার জয়জয়কার। নাকি চামচামির?
যত বেশি প্রচার তত বেশি প্রসার। এসব প্রচারণা দেখে অনেকে অলক্ষ্যে হাসেন। তাতে কি? এ নিয়ে চিন্তিত কিংবা লজ্জিত নন তারা। এ প্রসঙ্গে আমার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমি সাধারণত বেলা ১১টায় অফিসে আসি। বেশিরভাগ সময়েই বিশেষ কোনো কাজ না থাকলে রাত ১০/১১টায় বাসায় ফিরি। শুটিং না থাকলে অফিস ছাড়া তেমন কোথাও যাওয়া হয় না। তবে প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বেরুনো আমার অভ্যাস। সে সময় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে দেখা হয়। যেহেতু আমাকে টিভিতে দেখা যায় তাই বিভিন্ন সময় নানান জনের নানান ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় আমাকে। একদিন একজন বয়স্ক ভদ্রলোক জিজ্ঞাসা করে বসলেন, "আচ্ছা ভাই আজকাল অনেক পত্রিকায়, নেটে দেখি-অনলাইনে এত লক্ষ লোক তাদের লেখা পড়ছেন। কোনো কোনো চ্যানেল বলে, সারা পৃথিবীর এতগুলো মহাদেশে এত কোটি লোক তাদের অনুষ্ঠান দেখছেন। আপনার অনুষ্ঠানটি তো বেশ জনপ্রিয়, আপনি বলতে পারেন না আপনার অনুষ্ঠান বিশ্বের সবাই দেখেন, এটির দর্শক সবচেয়ে বেশি। যে যুগ পড়েছে তাতে নিজের ঢোল নিজেকেই পেটাতে হয়।" আমি বিনীতভাবে বললাম, আমার মনে হয় 'ইত্যাদি'র জন্য এই প্রচারটা দরকার নেই। তা ছাড়া দেশের আনাচে-কানাচে যেসব প্রচারবিমুখ মানুষ নীরবে-নিভৃতে কাজ করছেন তাদেরকেই আমরা তুলে ধরতে চেষ্টা করি। প্রচারবিমুখ মানুষদের দেখিয়ে নিজেরা প্রচারপাগল বা সরব হলে চলবে কী করে। তা ছাড়া আমরা মনে করি দর্শকরাই হচ্ছেন 'ইত্যাদি'র প্রাণ এবং...। আমি কথা শেষ করতে পারলাম না পাশ থেকে একটি ২০/২২ বছরের যুবক বলে উঠল, "ঠিকই বলেছেন, 'ইত্যাদি'র প্রচার দরকার নেই। কারণ আমি নিজেও আপনাদের ফ্যান পেজের সদস্য। তখন পাশের ভদ্রলোককে উদ্দেশ্য করে যুবকটি বলল, আব্বু ওনাদের ফ্যানের সংখ্যা ১৬ লক্ষ ছাড়িয়ে গ্যাছে। আর ইউটিউবে 'ইত্যাদি'র এক একটি ফুটেজ ছেড়ে দিলে ২/৩ ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ লক্ষ লোক সেটা দেখে ফেলে অর্থাৎ টেলিভিশন ছাড়াও ইউটিউবের মাধ্যমে সারা পৃথিবীর কোটি কোটি দর্শক 'ইত্যাদি' দেখছে। এদিকেও 'ইত্যাদি' এগিয়ে।" যাই হোক ভদ্রলোক ছেলের কথা শুনে একটু বিব্রত হলেন আবার খুশিও হলেন। কথা শেষে ছেলেটি ছবি তুলতে চাইল, আমরা তিনজন একটি ছবি তুললাম। ছবি তোলার দায়িত্ব পেল আমার হাঁটার নিয়মিত সঙ্গী, দেশের সেরা চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন বুলু। ঘটনাটি এ জন্যই বললাম যে, সত্য কখনো চাপা থাকে না। যাই হোক প্রসঙ্গ ছিল ভাড়াটে লেখকদের নিয়ে। এসব ভাড়াটে লেখক কেউ কেউ পয়সার বিনিময়ে কারও পক্ষে লেখেন, কেউ তোষামোদ করতে গিয়ে লেখেন, কেউ আবার লজ্জায় পড়ে বাধ্য হন লিখতে, কেউ অনুরোধের ঢেঁকি গিলতে লেখেন, কেউ আবার এদের যন্ত্রণার হাত থেকে বাঁচার জন্য লেখেন। কিন্তু এরা যা লেখেন তা কারও বলে দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মনগড়া লেখেন বলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুল তথ্যের কারণে তা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তখন ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভুল তথ্য হাজারবার বললেও সত্য হয় না, কারণ মিথ্যা মিথ্যাই। আমরা যারা অনুষ্ঠান করি সেই অনুষ্ঠানের মধ্যেও রয়েছে মিথ্যাচার। কেউ অনুষ্ঠানের নাম নিয়ে, অনুষ্ঠানের জন্ম নিয়ে, অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা নিয়ে, অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু নিয়েও মিথ্যাচার করেন। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানটি প্রচারের পর তার দর্শক গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও মিথ্যাচার হয়। মিডিয়া হাতে থাকলে যা হয় আরকি। যার যার মিডিয়াতে তার তার অনুষ্ঠানের ঢোল পেটাতে শুরু করেন। আর বিষয়টি হাস্যকর হয়ে ওঠে তখনই যখন এসব মিথ্যাচারের পক্ষে কিছু স্বার্থান্বেষী বুদ্ধিজীবী মাইক্রোফোনে কিংবা পত্রিকায় কলাম লিখে প্রশংসা করে সাফাই গান।
আসলে 'কয়লা ধুলে যে ময়লা যায় না, কয়লা নিজে তা টের পায় না। তাই কয়লার ময়লা রয়েই যায়'। আসলে যারা ভালো কাজ করেন তারা সেটা করার আগে জাহির করেন না। দর্শকরাও 'কি করব' সেটা শোনার চেয়ে, 'কি করেছি' সেটা শুনতেই বেশি আগ্রহী। ছোটবেলায় একটি কবিতা পড়েছিলাম, যার দুটি লাইন ছিল- 'নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল, তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল'। নদী নিজের জল নিজে পান করে না, গাছ নিজের ফল নিজে খায় না। তবে গাছ যারা লাগায় তারা গাছের ফল অবশ্যই ভোগ করে। কিন্তু এই সমাজে নিভৃত নীরবে এমন মানুষও আছেন যিনি গাছ লাগান কিন্তু তার ফল নিজে ভোগ করেন না। তেমনই একজন মানুষ ছিলেন নওগাঁ জেলার ভিমপুর ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের শতোর্ধ্ব বয়সী বৃদ্ধ গহের আলী। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে যাকে আমরা 'ইত্যাদি'তে দেখিয়েছিলাম। সোজা হয়ে চলতে পারেন না। তবু একের পর এক লাগিয়ে গেছেন গাছ, শুধুই তালগাছ। প্রশ্ন জাগতে পারে- শুধু তালগাছ কেন? কারণ শতোর্ধ্ব গহের আলীর সামর্থ্য নেই অন্য ফলদ বা দামি বনজ গাছের চারা কেনার। এ বয়সে তার জীবিকা ভিক্ষান্ন। চাল-ডালের সঙ্গে তালের অাঁটি ভিক্ষা হিসেবে চেয়ে এনে পুঁতে দেন সরকারি রাস্তার দুই পাশে। আর এভাবেই রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের দুই পাশে এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১৮ হাজারেরও বেশি তালের গাছ লাগিয়েছেন। প্রখর রৌদ্রে পথ দিয়ে যেতে ছায়া ছিল না কোথাও। মানুষের কষ্ট দেখে গহের আলীর মাথায় গাছ লাগানোর চিন্তা আসে। আর তাই শুরু করেন খাদ্যের সঙ্গে সঙ্গে তালের অাঁটির ভিক্ষা। তার লাগানো সেই গাছ আজ সবাইকে ছায়া দিচ্ছে, এতেই তার তৃপ্তি। 'ইত্যাদি'র মঞ্চে এই নিঃস্বার্থ নিঃসম্বল মানুষটির প্রতি সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন।
তার জীবন সাধনার সামান্য স্বীকৃতি হিসেবে তার হাতে দুই লাখ টাকার একটি চেক তুলে দিয়েছিলাম। সেই বছরেরই ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্রথমবারের মতো জাতীয় পরিবেশ পদক-২০০৯ প্রদান করা হয় এবং 'ইত্যাদি'তে প্রচারের পর গহের আলী পরিবেশ সংরক্ষণ ক্যাটাগরিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করেন। গহের আলীর মৃত্যুতেও তাই শোকে আকুল হয়ে কেঁদেছে অনেকেই। ছোটবেলায় পড়া আর একটি কবিতার কথা মনে পড়ছে, যার বিষয়বস্তু ছিল- 'যেদিন তুমি পৃথিবীতে এসেছিলে, সেদিন তুমি একাই কেঁদেছিলে আর তোমার আগমনে সবাই হেসেছিল আনন্দে। জগতে এমন কাজ করতে হবে যাতে তুমি হাসতে হাসতে মরতে পার এবং তোমার মৃত্যুতে সবাই শোকে আকুল হয়ে কাঁদে'। শুধু গহের আলী নয়- এমনি অনেক সৎসাহসী, সাদামনের মানুষকে আমরা 'ইত্যাদি'তে তুলে ধরেছিলাম। যাদের অনেকেই পেয়েছিলেন দেশ-বিদেশের অনেক সম্মানজনক পুরস্কার। এদের মধ্য থেকে বাংলাদেশ প্রতিদিনেও 'ইত্যাদির সেই সেরা মানুষেরা' শিরোনামে ১০ জন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বের পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে (৮ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে)।
সুপ্রিয় পাঠক এরা কেউ স্বীকৃতির প্রত্যাশা কিংবা মূল্যায়নের চিন্তা করেননি। যেমন বরগুনার জয়দেব দত্ত। নিজের জীবন বিপন্ন করে প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের আশ্রয়স্থলে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি যে প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছেন তা পরবর্তীতে তার মূল্যায়ন করা হবে এ চিন্তায় নয়। আসলে ফুল ফুটলে তার সুবাস ছড়িয়ে পড়বেই। প্রচারসর্বস্ব নয়, গহের আলী বা জয়দেব দত্তদের মতো নীরব, নিঃস্বার্থ মানুষের বড় প্রয়োজন এ সমাজে। যাদের কীর্তি তুলে ধরার জন্য কোনো ভাড়াটে লেখকের প্রয়োজন হয় না। যারা নিজেরাই হয়ে উঠেন বইয়ের বিষয়। যাদের কষ্ট করে খুঁজে আনতে হয়। কারণ আত্মপ্রচার, আত্মপ্রসাদ, আত্মপ্রদর্শনী নয়, সত্যিকারভাবে সামগ্রিক দায়বদ্ধতা থেকে এরা কাজ করেন। এদের মধ্যে কোনো ভণ্ডামি নেই। আর তাই এদের প্রচার লাগে না। আত্মপ্রচারের এ মহোৎসবের যুগে এসব নীরব কর্মীকে অন্যরা খুঁজে বের করেন। যেমন আমরা করেছি।
আজকাল টেলিভিশন দেখলে মনে হয় একেকজনের প্রতিভার যেন শেষ নেই। একই ব্যক্তি গায়ক, নায়ক, অভিনেতা, উপস্থাপক, নৃত্যশিল্পী, মডেল একই অঙ্গে এত রূপ হরহামেশাই দেখা যায়। এরা আবার বিচারও করেন। উপায়ইবা কি, যে হারে রিয়েলিটি শো হচ্ছে, এত বিচারক পাওয়া যাবে কোথায়? সুতরাং যাকে ইচ্ছা তাকে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিচারকের আসনে। এদের বিচারে যে প্রতিভা নির্বাচিত হয় তার ভবিষ্যৎ কী হচ্ছে আর কী হতে পারে তা তো আমরা দেখছিই। প্রসঙ্গটি এ জন্যই এলো, কারণ চারদিকে এত প্রতিভার ছড়াছড়ি, একই ব্যক্তির এতগুলো অঙ্গনে বিচরণ এবং এত বেশি অনুষ্ঠান নির্মাণ করতে দেখে আমাকে অনেকে প্রশ্ন করেন- আপনি আরও বেশি বেশি অনুষ্ঠান করতে পারেন না? আমি কথা না বাড়িয়ে বিনয়ের সঙ্গে বলি- 'আমার অনুষ্ঠান একটু জটিল বলে করতে সময় বেশি লাগে, দেশের নানান জায়গায় ছোটাছুটি করতে হয়, তাই বেশি করতে পারি না'। প্রশ্নকর্তাকে আমি এ উত্তর দিলেও আসল কথা হচ্ছে, কেউ যদি প্রশ্ন করেন আপনাকে এত বেশি দেখি কেন? সেটা ভালো নাকি আপনাকে এত কম দেখি কেন, সেটা ভালো? নিশ্চয়ই পরেরটি। আসলে আমরা বছরে অল্প কয়েকটি অনুষ্ঠান করি এবং দর্শকরা তার জন্য অপেক্ষা করেন। কেউ কেউ বলেন, বেশি অনুষ্ঠান করলে দর্শকরা বেশি চিনবে, অর্থও বেশি আসবে। কথাটি ঠিক নয়, অর্থাৎ এটিও মিথ্যা কথা। আমি মনে করি অনুষ্ঠান যদি ভালো হয়, অর্থ কোনো সমস্যা নয়। আমি যদি পাঁচটি অনুষ্ঠানের 'বাজেট এবং সময়' একটি অনুষ্ঠানের পেছনে খরচ করি তবে অনুষ্ঠানটি মানসম্পন্ন হতে বাধ্য। যদিও সবকিছুর পূর্বশর্ত হচ্ছে 'মেধা'। আর অনুষ্ঠানটি যদি বেশি দর্শক দেখেন তাহলে জনপ্রিয়তারও কমতি হয় না। আমরা আনন্দিত কারণ 'ইত্যাদি' দুটি বিষয়ই পেয়েছে। 'ইত্যাদি'র এই দীর্ঘ ২৬ বছরের পথচলায় কখনো স্পন্সর সমস্যা হয়নি। আর জনপ্রিয়তা বা দর্শক পছন্দে এখনো সব ধরনের জরিপে 'ইত্যাদি' সেরার আসনটি পেয়েছে। প্রয়োজন হয়নি কোনো ভাড়াটে লেখকের লেখা প্রশংসাবাণী কিংবা সার্টিফিকেট। দর্শকরাই হচ্ছে 'ইত্যাদি'র বড় প্রশংসাপত্র। গেল এক দশক ধরে আমরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্তি্বক গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে 'ইত্যাদি' ধারণ করছি। ঐসব স্থানের দর্শকদের উচ্ছ্বাস দেখলেই বোঝা যায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দর্শকরা 'ইত্যাদি'কে কতটা ভালোবাসেন। আর সে ভালোবাসার সুবাদেই 'ইত্যাদি'র এ দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হয়েছে। আমরা আনন্দিত যে এখন অনেকেই 'ইত্যাদি'র মতো তাদের অনুষ্ঠানকেও স্টুডিওর বাইরে নিয়ে এসেছেন। সেজন্য তাদের ধন্যবাদ।

আসলে চ্যানেলের এই ঘনঘটার যুগে এবং হুজুগে নানারকম সুযোগে কে অজ্ঞ-কে যোগ্য, কী ন্যায্য-কী ত্যাজ্য তা আর বিচার্য থাকে না। যে কারণে অনিবার্যভাবেই অনেক কিছুই হাস্যকর হয়ে ওঠে। নানা মিথ্যা তথ্যে দন্ত বিকশিত হাসিতে আত্মহারা হয়ে এদের কেউ কেউ আত্মপ্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। সাধারণ দর্শকরা সবই বোঝেন। বোঝেন কোনটা মিথ্যা কোনটা সত্য। আর সেজন্যই সাধারণ আর অসাধারণের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। একবার এক আড্ডায় আমার এক পরিচিতজন 'সাধারণ' আর 'অসাধারণের' পার্থক্য নির্ণয় করতে গিয়ে বলেন, 'অসাধারণরা যখন কোন কাজ করতে ব্যর্থ হন-তখন যারা সেই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেন তাদেরকেই সাধারণ মানুষ বলা হয়'। সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া ক'টি ঘটনায় অবশ্য আমরা আবারও তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ পেয়েছি। রানা প্লাজার দুর্ঘটনার সময় সাধারণ মানুষের ভূমিকার কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। কিভাবে তারা এগিয়ে এসেছিল। শ্যালা নদীতে তেলের ট্যাংকার ডুবলে-তেল সংগ্রহ করে নদী আর সুন্দরবনকে বাঁচাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল সাধারণ মানুষ। আর অতি সম্প্রতি ছোট্ট শিশু জিহাদের মরদেহ পাইপ থেকে সফলতার সঙ্গে উদ্ধারও করেছিল এই সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের সাফল্যের এরকম হাজারও উদাহরণ দেওয়া যাবে, যারা কাজ করেন তাদের বিবেকের শুভ প্রেরণায়। আর এই সাধারণ মানুষই আমাদের শক্তি। মনের চোখ না খুলে মনকে প্রবোধ দেওয়ার অবোধ চেষ্টায় বোধশক্তিই যখন হারিয়ে যায় তখন প্রভেদ থাকে না সত্য আর মিথ্যায়। যে কারণে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে মিথ্যাচার। তবে এটা ঠিক-প্রচারের প্রাচুর্যতা না থাকলেও যা সত্য তা নিভৃত নিরালাতেও সত্যই থাকে। মিথ্যা দিয়ে সত্যকে কখনো ঢেকে রাখা যায় না। একদিন না একদিন সত্য বেরিয়ে আসবেই।

লেখক : হানিফ সংকেত,গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়ন কর্মী।

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

0 মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comments করার জন্য Gmail এ Sign in করতে হবে।