২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রচারিত ইত্যাদিতে আলোকিত মানুষ হিসেবে
তুলে ধরা হয় বইপ্রেমী পলান সরকারকে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামের ৮৬ বছরের
বৃদ্ধ পলান সরকার তার গ্রামে শুরু করেছেন এই বই পড়ার আন্দোলন। বই পড়ার প্রতি আগ্রহ
সৃষ্টি করার জন্য তিনি নিজের টাকায় কেনা বই বিলি করেন সবাইকে।প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে
ওঠে নতুন পাঠকের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন তিনি।
এই বৃদ্ধ বয়সেও মাইলের পর মাইল হেঁটে গিয়ে
বাড়িতে বাড়িতে তার পাঠকদের কাছে গিয়ে পুরনো বই ফেরত নিয়ে নতুন বই দিয়ে আসেন। নিজের
ডায়াবেটিস রোগের কারণে প্রতিদিন রুটিন করে হাঁটা তার অভ্যাস। তাই এক কাজে দুই কাজ করেন
তিনি। অনেকেই হাটের দিন তাদের পড়া পুরনো বই নিয়ে আসেন এবং সেই বই ফেরত দিয়ে পলান সরকারের
কাছ থেকে নতুন বই নিয়ে যান। গ্রামের সব বয়সী মানুষই রয়েছে তার পাঠক তালিকায়। শিক্ষা,
সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, ধর্ম ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের বই তিনি বিভিন্ন শ্রেণি ও বয়সের মানুষকে
বিলিয়ে বেড়ান। জন্মের মাত্র কয়েক মাস পরই তার পিতার মৃত্যু হয়। অর্থনৈতিক কারণে তিনি
ষষ্ঠ শ্রেণির বেশি লেখাপড়া করতে পারেননি। নিজে লেখাপড়া বেশিদূর করতে না পারলেও পরিবারের
সবাইকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন, কারণ জ্ঞানদান করাটাকে তিনি মহৎ কাজ বলে মনে করেন।
তার এই বইপড়া আন্দোলনে সহযোগিতা করার জন্য ইত্যাদির মাধ্যমে তাকে দুই সেলফ ভর্তি বই
দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তার পাঠক সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি তার বই পড়ার আন্দোলন
আরও বিস্তৃত হয়। ইত্যাদিতে প্রচারের পর তাকে নিয়ে পত্র-পত্রিকায় প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
ছাপা হয়েছে, নির্মিত হয়েছে বিজ্ঞাপন। পলান সরকার ইত্যাদির পরবর্তী অনুষ্ঠানে বলেন,
'ইত্যাদি'র অনুষ্ঠান হওয়ার পরে এবং 'ইত্যাদি' থেকে বই দেওয়ার পরে পাঠক সংখ্যা অনেক
বাইরা গেছে'। শুধু তাই নয় এরপর তাকে নিয়ে নির্মিত হয় বিজ্ঞাপন, রচিত হয় নাটক, অনুষ্ঠিত
হয় পলান মেলা। ২০১১তে তিনি লাভ করেন একুশে পদক। পলান সরকারকে নিয়ে এ বছর আরও একটি আনন্দের
সংবাদ হচ্ছে গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 'ইমপ্যাক্ট জার্নালিজম ডে' উপলক্ষে সারা বিশ্বের
বিভিন্ন ভাষার দৈনিকে তার ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ। বলা যায় ইত্যাদির এই আবিষ্কার পলান
সরকার পেলেন বিশ্ব স্বীকৃতি।
সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

0 মন্তব্য:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comments করার জন্য Gmail এ Sign in করতে হবে।