ক্বারী ওবায়দুল্লাহ বাংলাদেশি একজন উপস্থাপক, ক্বারী ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ১৯৭০-৮০ দশকে মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চারজন ক্বারীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন।তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন নিয়মিত ক্বারী ছিলেন। তিনি ঐতিহাসিক চকবাজার শাহী জামে মসজিদে ১৯৬২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রেকর্ড করা আজান প্রতিদিন বাংলাদেশের সরকারি প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ বেতার, বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচারিত করে। এছাড়াও তিনি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শিক্ষক ছিলেন। তাকে নিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে কুরআন ফাউন্ডেশন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হুইল চেয়ারে করে পর্বতের চূড়ায় উঠলেন তিনি!
চীনের এক ব্যক্তি ২০১১ সালে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় পা
দুটি হারান। তবে এতে তিনি দমে যাননি। দুর্ঘটনার ঠিক ৫ বছর পর সেই মানুষটিই তার
শহরের সবচেয়ে নামকরা পর্বতটি জয় করে পেললেন! পাহাড় বেয়ে ১৬২৪ ফুট উঠে গেছেন তিনি।
কিন্তু কিভাবে তিনি এই কঠিন কাজটি করলেন! যে হুইল চেয়ারে করে ঘোরাফেরা করেন, সেই হুইল
চেয়ার নিয়েই উঠে গেছেন পর্বতেন চূড়ায়!
পা নেই, তবুও চলছে রিকশার চাকা, চলছে সংসার!!!
তাঁদের জীবনের গল্প বিভীষিকাময়।
সুস্থ–সবলভাবে পৃথিবীর আলো দেখলেও জীবনের একটি পর্যায়ে
এসে পঙ্গু হয়ে যান তাঁরা। তবে ভাগ্যাহত এই তিন মানুষ দমে যাননি। অদম্য ইচ্ছার
জোরে রিকশা চালিয়ে এখন এই তিন ব্যক্তি জীবনের চাকা ঘোরানোর
চেষ্টা করে চলেছেন। ভাগ্যাহত
এই তিনজন হলেন কোরবান আলী ওরফে শাহীন (৪২), আবুল
হাশেম (৩৮) ও আমির হোসেন (৪০)। প্রথমজন ছোটবেলায় টাইফয়েডে ডান পায়ের চলৎশক্তি
হারান। অপর দুজন সড়ক দুর্ঘটনায় একটি করে পা হারান।
প্রাণীদের আপনজন সোনা মিয়া
সাপ দেখলেই হইচই পড়ে যায়। ছড়িয়ে পড়ে
আতঙ্ক। মারার জন্য উদ্যত হয় সবাই। কিন্তু একজন ভিন্ন। তিনি সাপ বাঁচাতে ছোটেন সবখানে। কক্সবাজারের
টেকনাফ কিংবা উখিয়ায় সাপ ধরা পড়লে ডাক পড়ে তাঁর। পরম মমতায় সাপ উদ্ধার করে ছেড়ে
দেন বনে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে
ডাকেন ‘সাপের বন্ধু’।
শুধুই কী সাপ,রক্ষা করে চলেছেন কাছিম, শিয়াল
ও হরিণ। দিনে দিনে হয়ে উঠেছেন প্রাণীদের আপনজন। তিনি আমিন উল্লাহ (৪২)। সবাই চেনেন
সোনা মিয়া নামে।
খেলার বাইরের মাশরাফি
বন্ধুসভার
সুমন ও কোমল বলল, ‘স্কুলের ঠিক পেছনেই মাশরাফির বাড়ি। যাবেন?’যাব না মানে? নড়াইলে
এসেছি আর ক্যাপ্টেনের বাড়ি দেখে যাব না, তা কী করে হয়?
মাশরাফি বিন মুর্তজা এখন ঢাকায়। সামনে ভারতের সঙ্গে সিরিজ।
নিজেকে তৈরি করার জন্য ক্যাম্পে তিনি। বাড়িতে আছেন মাশরাফির মা–বাবা। আমরা তো বেশ কয়েক বছর ধরেই দেখছি, মাশরাফির কথাবার্তায় কীভাবে ফুটে ওঠে দেশপ্রেম, কীভাবে তিনি উজ্জীবিত করে তোলেন গোটা দলকে। মা–বাবাই তো বলতে পারবেন, কীভাবে এমন সোনার ছেলে হয়ে উঠলেন আমাদের ক্যাপ্টেন।
কিংবদন্তি মাহাথির
তাকে বলা হয় আধুনিক
মালয়েশিয়ার রূপকার। তার রাষ্ট্র পরিচালনা এবং
উন্নয়নের মন্ত্র কেবল নিজের দেশের ক্ষেত্রেই নয়, সমগ্র বিশ্বেই রোলমডেল হিসেবে স্বীকৃত। 'আমাকে দশজন যুবক দাও, আমি মালয়ীদের সঙ্গে
নিয়ে বিশ্বজয় করে ফেলব'- এমনি আদর্শিক চেতনা নিয়ে
দারিদ্র্যের তলানীতে অবস্থান করা মালয়েশিয়াকে তুলে এনেছেন উন্নয়ন আর আধুনিকতার
শীর্ষে। আপাদমস্তক বাস্তববাদী এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ডা. মাহাথির
মোহাম্মদ আক্ষরিক অর্থেই পৃথিবীর তাবত শাসকদের জন্য একটি অনুকরণীয় আদর্শ।
ফুলে আরার হাসপাতাল
সুজনের
ভীষণ ঠান্ডা লেগেছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আশপাশের কবিরাজ দেখিয়ে কোনো লাভ
হলো না। সুজনের অবস্থা আরও খারাপ হলো। ওকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার
চেষ্টা চলল। এরই মধ্যে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। ঘাটে এসে আর নৌকা পাওয়া যায় না।
অগত্যা আবার বাড়ির দিকে রওনা। সুজনকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে নিতেই সুজনের হূৎস্পন্দন
থেমে যায়। সেবার কোলেপিঠে করে বড় করা ছোট ভাই সুজনকে হারিয়েছিলেন কিশোরী ফুলেআরা।
বিনা চিকিৎসায় এভাবেই কি চরের মানুষকে মরে যেতে হবে? ভাবতে থাকেন ফুলেআরা।
চরের
চারদিকেই যমুনা নদী। গ্রাম থেকে হাট-বাজারে বা উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র বাহন
নৌকা। যেতে সময় লাগে দেড়-দুই ঘণ্টা। সন্ধ্যা থেকে নৌকা চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
নাটুয়ারপাড়া চরের এমনই একটি গ্রাম জোড়গাছা। এই গ্রামেরই কিশোরী ফুলেআরা। ১১ বছর
বয়সী এই কিশোরীর ছোট ভাই সুজন। মাত্র তিন বছর বয়সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সে চলে
যায় না ফেরার দেশে। ঘটনাটি ১৯৮২ সালের।
প্রত্ন নিদর্শন সংগ্রাহক
রাজশাহীতে অবস্থিত
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর হলো বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাদুঘর। ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত
এই জাদুঘরটি বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর। এই গবেষণা জাদুঘরের সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে- পাথর
ও ধাতুনির্মিত বিভিন্ন ভাস্কর্য, খোদিত লিপি, মুদ্রা, মৃৎপাত্র ও পোড়ামাটির ফলক, অস্ত্রশস্ত্র,
আরবি ও ফারসি দলিলপত্র, চিত্র, বইপত্র, সাময়িকী এবং সংস্কৃত বাংলায় লেখা বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি।
ঐতিহাসিক এসব প্রত্ন নিদর্শন সংগ্রহের পেছনেও রয়েছে আরেক ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের নায়ক
হলেন এই জাদুঘরেরই অবসরপ্রাপ্ত প্রত্ন নিদর্শন সংগ্রাহক মো. আবদুস সামাদ মণ্ডল।
উপকূলের নেভিগেশন লাইট
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর
প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে দেশের উপকূলীয় এলাকার একটি বড় অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছিল। এই ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে যেসব স্থানে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম
হচ্ছে বরগুনা। বরগুনার তালতলীতে অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি বেশি হলেও ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সংবাদ
পেয়ে সময়মতো আশ্রয়কেন্দে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার ফলে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে
কম।
বইপ্রেমী পলান সরকার
২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রচারিত ইত্যাদিতে আলোকিত মানুষ হিসেবে
তুলে ধরা হয় বইপ্রেমী পলান সরকারকে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামের ৮৬ বছরের
বৃদ্ধ পলান সরকার তার গ্রামে শুরু করেছেন এই বই পড়ার আন্দোলন। বই পড়ার প্রতি আগ্রহ
সৃষ্টি করার জন্য তিনি নিজের টাকায় কেনা বই বিলি করেন সবাইকে।প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে
ওঠে নতুন পাঠকের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন তিনি।
সদা মিথ্যা কথা বলিবে!
কথায় আছে-জনে জনে জনতা বা জনগণ, আবার যতজন-ততমন, যতমন-ততমত,
যতমত-ততপথ। আর এই নানা মত, নানা পথের মতান্তর নিয়ে মাতামাতি রাষ্ট্র থেকে সমাজের বিভিন্ন
ক্ষেত্রেই দেখা যায়। আমাদের এখানে কিছু কিছু মানুষ আছে যাদের মুখ একটা হলেও মুখোশ অনেক।
সেই মুখোশের মুখে-মুখ ফসকেও এরা সত্যি কথা বলতে পারে না। তাই চারদিকে চলছে মিথ্যাচারের
মহোৎসব। এখন কে কী উদ্দেশ্যে কী বলেন, আর কী উদ্দেশ্যে তা বদলেও ফেলেন বোঝা মুশকিল।
ছোটবেলায় পড়েছিলাম 'সদা সত্য কথা বলিবে', এদের কর্মকাণ্ডে মনে হয় কথাটি হওয়া উচিত ছিল
'সদা মিথ্যা কথা বলিবে'। এ মিথ্যাবাদীদের অধিকাংশেরই আরেক নাম 'চামচা'। এদের মুখের
মুখরতায় মুগ্ধ হন অনেকেই। কারও ক্ষতি কিংবা অবনতির জন্য আশপাশে এ ধরনের দু'একটি প্রাণী
থাকলে আর কিছু লাগে না। এরা একবার আপনাকে আকাশের ওপর তুলে ধরবে আবার ধপ করে মাটিতে
ফেলে দেবে। এদের অস্ত্র একটাই 'মিথ্যা বলা'।
অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান- সংগ্রামী এক মানুষের নাম
আমার জন্ম জামালপুর জেলার এক অজপাড়াগাঁয়ে। ১৪ কিলোমিটার দূরের
শহরে যেতে হতো পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে চড়ে। পুরো গ্রামের মধ্যে
একমাত্র মেট্রিক পাস ছিলেন আমার চাচা মফিজউদ্দিন। আমার বাবা একজন অতি
দরিদ্র ভূমিহীন কৃষক। আমরা পাঁচ ভাই, তিন বোন। কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতো আমাদের। আমার দাদার আর্থিক
অবস্থা ছিলো মোটামুটি। কিন্তু তিনি আমার বাবাকে তাঁর বাড়িতে ঠাঁই দেননি। দাদার বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে একটা ছনের ঘরে আমরা এতগুলো ভাই-বোন আর
বাবা-মা থাকতাম। মা তাঁর বাবার বাড়ি থেকে নানার সম্পত্তির সামান্য অংশ পেয়েছিলেন। তাতে তিন বিঘা জমি কেনা হয়। চাষাবাদের জন্য
অনুপযুক্ত ওই জমিতে বহু কষ্টে বাবা যা ফলাতেন, তাতে বছরে ৫/৬ মাসের খাবার জুটতো। দারিদ্র্য কী জিনিস, তা আমি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি- খাবার নেই, পরনের কাপড় নেই; কী এক অবস্থা !
ছিলাম অ্যানালগ হয়েছি ডিজিটাল
‘ছিলাম পাড়াগাঁয়ের অ্যানালগ মেয়ে, এখন আমি ডিজিটাল। বিশ্ব এখন আমার হাতের মুঠোয়। ইন্টারনেটে
প্রতিদিন বিশ্ব ভ্রমণ করি।’ এমন কথা বলতেই পারেন রেবেকা খাতুন। মেহেরপুর সদর উপজেলার
কুতুবপুর ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা ২৫ বছর বয়সী এই নারী। কম্পিউটার,
ইন্টারনেট, ডিজিটাল ক্যামেরা ইত্যাদি ব্যবহার
করে গ্রামের মানুষকে দেন তথ্যপ্রযুক্তির নানা রকম সেবা।
শামীমার যুদ্ধজয় ও একজন রইসুল
জমিজমা থেকে বঞ্চিত করতে মাত্র ১২ বছর বয়সে শামীমা আকতারকে একজন নিরক্ষর
কৃষিশ্রমিকের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন সৎভাইয়েরা। কিন্তু তাঁদের ‘দুরভিসন্ধি’ ব্যর্থ করে দিয়েছেন শামীমা। বিয়ের ১২ বছর পর তিন সন্তানের
মা হয়ে তিনি লেখাপড়া শুরু করেন। পাশাপাশি নিজেও গত বছর দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে
বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেছেন। এর মধ্যে সন্তানদের দুজনকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত
করেছেন।
শূন্য হাতে শুরু, এখন সফল উদ্যোক্তা
ঘটনাটা ৩১ বছর আগের। এক তরুণী জীবিকার তাগিদে কাজ নেন পোশাক কারখানায়। মাননিয়ন্ত্রণকর্মী
িহসেবে ৮০০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু। কাজে যোগ দিয়ে কিছু সময় যেতেই নিজের ভেতরই যেন
পরিবর্তনের ডাক পেলেন—এভাবে হবে না। এগোতে হলে শিখতে হবে মেশিনের কাজ। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ধরলেন
মেশিন। কাজের দক্ষতায় পেতে থাকেন পদোন্নতি। এবার সচল হলো স্বপ্নও। পোক্ত হয়ে একসময়
কাজ ছেড়ে নিজেই গড়লেন প্রতিষ্ঠান। শূন্য হাতে শুরু করে তিনি এখন সফল উদ্যোক্তা। তাঁর
নাম বেবি হাসান। বিএস অ্যাপারেল নামের একটি বায়িং হাউসের কর্ণধার তিনি।
বিশ্বের সেরা ধনী বিল গেটস
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী ব্যক্তিদের ধনসম্পদের পরিমাণ আরও বেড়েছে। সম্পদের মোট মূল্য ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বা তার চেয়ে বেশি, এমন ধনীর সংখ্যা এখন ১ হাজার ৮২৬ জন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৪৫ জন। বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের তৈরি করা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী বা বিলিয়নিয়ার ব্যক্তিদের বার্ষিক এই তালিকার শীর্ষ স্থানে আছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তির প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল উইলিয়াম গেটস। এ নিয়ে তিনি এই তালিকায় ২১ বারের মধ্যে ১৬ বারই প্রথম হন।


















