সাধারণত
আমরা জানতাম যে ধূমপানের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও
ফুসফুসের ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগ হয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, যারা দীর্ঘদিন ধূমপান করেন ভবিষ্যতে তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা আছে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ধূমপান শুধু যে
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়
তা নয়,
এ রোগ নিয়ন্ত্রণ, স্বাভাবিক
রাখাও কষ্টকর বা জটিলতর হয়ে পড়ে। গবেষণায় বলা হয়, ধূমপানের মাত্রা যতই বাড়ে ততই ডায়াবেটিস
ঝুঁকির মাত্রা বাড়তে থাকে।
ডায়াবেটিসে চোখের সমস্যা ও করণীয়
ডায়াবেটিস শরীরের যেসব অতি
গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তার মধ্যে অন্যতম হল চোখ। ডায়াবেটিসে চোখের
সর্বস্তরের কাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে রেটিনার ক্ষতিই সবচেয়ে মারাত্মক
কেননা তাতে ডায়াবেটিক রোগীর দৃষ্টিশক্তি হারানোর সমূহ আশংকা থেকে যায়। চক্ষু পার্শ্বস্থিত
অন্যান্য উপাদান জড়িত হলে দৃষ্টি অস্বচ্ছ হতে পারে। কিছু কিছু সমস্যার কারণে রোগীর
মৃত্যুর আশংকাও দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিক রোগীর চোখের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তনালির
সমস্যাটিই মূলত এজন্য দায়ী।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সুখবর
ডায়াবেটিস
রোগীদের জন্য সুখবর আছে। স্টেম সেল
প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে শরীরের অগ্ন্যাশয়ের নষ্ট হওয়া বিটা কোষ আবার ফিরিয়ে আনা
যাবে। ডায়াবেটিস
রোগীকে কৃত্রিম ইনসুলিন নেওয়ার আর দরকার হবে না বা কম প্রয়োজন হবে। অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ ইনসুলিন নিঃসরণ করে। ইনসুলিন রক্তে থাকা শর্করা দেহকোষে প্রবেশে সহায়তা করে। এই শর্করা পরে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। নানা কারণে অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ
বিকল বা নষ্ট হওয়ার কারণে ইনসুলিন নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়, ফলে তা
দেহকোষে পৌঁছায় না। এটাই ডায়াবেটিস
পরিস্থিতি।
রমজান ও ডায়াবেটিস
সামনে রমজান মাস। যাঁরা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাঁদের রোজা রাখা না-রাখা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো রয়েছে, তার জবাব নিয়ে স্বাস্থ্যকুশলের এই বিশেষ আয়োজন। বিশ্বের প্রায় ১৫৭ কোটি মুসলিমের মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৫ কোটি ডায়াবেটিসের রোগী রমজান মাসে রোজা পালন করেন। ১৩টি মুসলিমপ্রধান দেশে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ টাইপ ২ ডায়াবেটিসের রোগী নিয়মিত রোজা পালন করে থাকেন। আপাতদৃষ্টিতে একজন সুস্থ ও সুনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের রোগীর রোজা পালন করতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু রমজান মাসে পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামের ধরন ও ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিনের পরিবর্তিত মাত্রা ও সময় সঠিকভাবে জেনে নিয়ে একজন ডায়াবেটিস রোগী রোজা পালনের জন্য সঠিকভাবে তৈরি হয়ে নেবেন। সুপরিকল্পিত ও সঠিক নির্দেশিত উপায় অবলম্বন করলে রমজান মাসে একজন ডায়াবেটিসের রোগীর কোনো রকমের সমস্যা বা অসুস্থ হওয়ার কথা নয়, কিন্তু এর বিপরীতটি ঘটলে অনেক সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।
ওজন কমাতে কখন অস্ত্রোপচার?
অতিরিক্ত ওজন শরীরের জন্য ভালো নয়। এর কারণে দেখা দেয় নানা রকমের সমস্যা। আজকাল অনেকেই ওজন কমানোর জন্য
অস্ত্রোপচার করিয়ে থাকেন। কিন্তু
বিষয়টি পুরোপুরি না বুঝে বা অস্ত্রোপচার করানোর পর সচেতন না থাকার কারণে বিপত্তিও
কম ঘটে না। এই যেমন: বাংলাদেশের
শফিউদ্দিন মাহমুদ নামের এক আবাসন ব্যবসায়ী কলকাতায় গিয়েছিলেন ওজন কমানোর
অস্ত্রোপচার করাতে। কলকাতার এক
নার্সিং হোমে ২০ কেজি ওজন কমানোর পর হোটেলে ফিরে তিনি মারা যান (সূত্র: প্রথম আলো, ১১ এপ্রিল)। আবার পপ তারকা আদনান সামির কথা মনে করুন। বিশালদেহী জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী অস্ত্রোপচার করিয়ে ১৩০ কেজির
মতো ওজন কমিয়ে দিব্যি সুস্থ আছেন। (সূত্র:
আস্ক ডটকম) তবে
অস্ত্রোপচার করে যদি ওজন কমাতেই হয়, তাহলে জেনে নিতে হবে এর আগে ও পরে কী করতে হবে। অতিরিক্ত ওজন হলেই অস্ত্রোপচার করবেন
কি না, ঠিক কখন
অস্ত্রোপচার করার প্রয়োজন পড়বে, কোন
শারীরিক অবস্থায় এটি নিরাপদ আবার অস্ত্রোপচারের পর কী নিয়ম মানতে হবে, খাদ্যাভাস কী হবে—সবকিছু সম্পর্কে জেনে-শুনে তবেই ওজন
কমাতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
কিডনি সুস্থ্য রাখার ৭ টি উপায়
কিডনি ফেইলুর বা রেনাল ফেইলুর শরীরের এক নীরব ঘাতক, প্রায় প্রতিটি পরিবারেরই কেউ না কেউ এই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত। তাই আমরা সকলেই কমবেশী জানি এ রোগের ভোগান্তি কতটা নির্মম; কিন্ত আমরা কি জানি কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে সহজেই এই রোগ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। আসুন জেনে নেই কিভাবে সহজেই আপনার কিডনিকে সুস্থ্য রাখা সম্ভব।
কিডনি কেন নষ্ট হয়, ভালো থাকবে কীভাবে
আমাদের দেহের বিপাকক্রিয়ায় তৈরি সব বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে কিডনির মাধ্যমেই বের হয়ে যায়। কিডনি অকার্যকর হয়ে গেলে শরীরের
ক্ষতিকর বর্জ্য রক্তে জমা হয়। তখন বেঁচে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে কিডনি
অকার্যকারিতার হার ক্রমাগত বাড়ছে। আর কিডনি রোগ চিকিৎসার জনবল ও অবকাঠামো
প্রয়োজনের তুলনায় খুবই দুর্বল। তাই কিডনি সুস্থ রাখার দিকে নজর দিতে হবে এখনই।
ডায়াবেটিস, এইচআইভি পরীক্ষার সহজ উপায় উদ্ভাবন
মার্কিন গবেষকেরা সম্প্রতি বিশেষ এক ধরনের চিপ
তৈরির দাবি করেছেন; এই একটি চিপই পুরো একটি পরীক্ষাগারের মতো কাজ
করতে সক্ষম। ডায়াবেটিস, এইচআইভি থেকে শুরু করে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে
নির্ণয় করা যায় এমন বেশ কিছু রোগও শনাক্ত করা যাবে এই চিপের মাধ্যমে। চিপের উদ্ভাবক গবেষকেরা
দাবি করেছেন,
ক্রেডিট কার্ডের সমান আকৃতির চিপটি খুব সহজেই সঙ্গে রাখা যায় এবং
রক্ত পরীক্ষার দ্রুত ফল দেখাতে পারে। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে ইকনমিক টাইমস।
ডায়াবেটিস ও হূদরোগ চিকিত্সায় নৌবাহিনীর প্রযুক্তি
পানির নিচে যোগাযোগের জন্য সাউন্ড নেভিগেশন অ্যান্ড র্যাংগিং বা সোনার পদ্ধতি ব্যবহার করেন নৌবাহিনীর সদস্যরা। যুক্তরাষ্ট্রের চিকিত্সকেরা সোনার পদ্ধতিটি ডায়াবেটিস ও হূদরোগ চিকিত্সায় কাজে লাগানোর লক্ষ্যে গবেষণা করছেন। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস। ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোর গবেষকেরা সোনার প্রযুক্তির ক্ষুদ্রতম সংস্করণ মানুষের শরীরে ডায়াবেটিস বা হূদরোগ চিকিত্সায় কাজে লাগিয়েছেন। এ পরীক্ষায় গবেষকেরা রিয়েল টাইমে মানুষের দেহের তথ্য পেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে কিছু কথা- রমজানে ওষুধ সেবনের নিয়ম
মানবদেহে রক্তচাপ আছে। কারও কারও যদি সেই রক্তচাপ স্বাভাবিক চাপের চাইতে বেশি থাকে, তবে তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা যেতে পারে। যদি কোনো ব্যক্তির বয়স ৩০ বছর হয় তবে তার Blood Pressure, Systolic Blood Pressure 120mmHg এর নিচে থাকতে হবে এবং Diastolic Blood Pressure 80mmHg এর নিচে থাকতে হবে। তবে কারও Blood Pressure 120 বা, 130 মিঃ মিঃ মারকারী (systolic) এবং 80mm বা 90mm (Diastolic) হলেই তাকে উচ্চ রক্তচাপের রোগী বলা যাবে না।
কমবে কোলেস্টেরল
রক্তে
কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও
ধমনিসংক্রান্ত
রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বেড়ে যায়। তাই
এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে
হয়। নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক
পরিশ্রম রক্তে কোলেস্টেরলের
মাত্রাকে
বশে রাখে। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজন
পড়ে। তবে এটি ব্যক্তির কোলেস্টেরলের মাত্রা ও রোগের ইতিহাসের ওপর অনেকটাই
নির্ভর করে। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিসিন
বিভাগের সহকারী
অধ্যাপক আ ফ ম হেলাল উদ্দিন বলেন, পারিবারিক ইতিহাস আছে কিংবা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা যাঁদের
বেশি, তাঁদের
খাওয়াদাওয়ায় খানিকটা বিধিনিষেধ
আরোপ
করতে হয়। এ ছাড়া শারীরিক পরিশ্রমকেও গুরুত্ব দিতে
হবে। আর যদি ওষুধ খেতেই হয়, তবে
অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খান। যে কোনো বয়সেই কোলেস্টেরলের
সমস্যা হতে পারে। ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল বশে রাখতে খাদ্যাভ্যাস
ও জীবনযাপনে কতটুক পরিবর্তন আনতে হবে, তা আজই জেনে নেওয়া যাক।
রোজায় ডায়াবেটিস রোগীর করণীয়
ডায়াবেটিসের রোগীরা খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও ওষুধপথ্যের নিখুঁত সময়সূচি ও নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলেন। তাই রমজান মাসে তাঁদের দৈনন্দিন সময়সূচিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হয়। খাবারের নতুন সময়সূচির সঙ্গে পরিবর্তিত হয় ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা ও সময়। তাই রমজান এলে ডায়াবেটিসের রোগীরা নানা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। সেই সঙ্গে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
রোজায় কিডনি রোগীর জীবনযাপন
রমজান মাসে খাদ্যাভ্যাস ও খাদ্যগ্রহণের সময়ে পরিবর্তন আসে, পরিবর্তিত হয় জীবনযাপন
প্রণালীতেও। এই পরিবর্তনের কারণে অনেকেরই দেখা দেয় সাধারণ কিছু শারীরিক সমস্যা। চিকিৎসকের পরামর্শ ও খাদ্য তালিকার প্রতি
মনোযোগের মাধ্যমে সহজেই এসব সমস্যা
এড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে কিডনি রোগীদের এ সময় যত্নবান হওয়া উচিত। শরীরের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অঙ্গ হচ্ছে কিডনি।
শরীরের সব বর্জ্য কিডনির মাধ্যমে বের হয়। প্রসাব
তৈরি ছাড়াও শরীরে পানি ও লবণের সমতা রক্ষা করে, বিভিন্ন হরমোন তৈরির মাধ্যমে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। এ ছাড়া শরীরের ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য রক্ষা করে।












.jpg)




